বিনোদন ডেস্ক : এক অন্যরকম সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েগেলো গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নাট্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে। পুরো শিল্পকলা একাডেমিই যেন হয়ে উঠেছিল সংষ্কৃতি কর্মীদের উপস্থিতিতে এক অন্যরকম মিলনমেলায়। কবিতা, গান, আবৃত্তি আর স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক কর্মীদের মনে করিয়ে দিয়েছে ফেলে আশা প্রিয় মতিহার চত্বর।
চলেছে দিনব্যাপী ও এসো মিলি প্রাণের টানে – ‘রাজশাহী বিশ্বাবিদ্যালয় প্রাক্তন সাংস্কৃতিক কর্মী সম্মিলন এবং কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক এর বক্তৃতা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রাক্তন সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ।
উল্লেখ করা যেতে পারে স্বনন, অনুশীলন নাট্য দল, সমকাল নাট্য চক্র, বিশ্বাবিদ্যালয় থিয়েটার, রুডা, উদীচী, গণশিল্পী সংস্থা, আবহমান, লেখক শিবির, অনির্বানসহ আরো বেশ কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রাক্তন কর্মীবৃন্দ গত দুই বছর যাবত এই ধরণের আয়োজন করে আসছে। সৈয়দ আপন আহসান এবং দিপু মাহমুদ এর আহ্বানে ও সারাদিনের বিভিন্ন পর্ব পরিচালনা করেন শামসুজজোহা এবং মোসাদ্দেক এলাহী পিরু।
এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক ছিলো বিশিষ্ট কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক এর বক্তৃতা ও বক্তৃতা পর্বে অতিথি হিসেবে বিশেষ ভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন ড. আনিসুজ্জামান, ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার এবং সাহিত্যিক-সাংবাদিক গোলাম মুর্শিদ। কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক তাঁর বক্তৃতায় শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এই রকম নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন এবং অনগ্রসর অবস্থা নিয়ে তাঁর হতাশা ব্যক্ত করেন ও তিনি উপস্থিত সুধীদের অনুরোধ করেন এই অনগ্রসরমানতা নিয়ে চিন্তা করার জন্য এবং সংশ্লিষ্ট মানুষদের কাছে এর কারণ ও প্রতিকার জানার জন্য।
প্রশ্নোত্তর পর্বে অবশ্য তিনি হতাশার মাঝে আশা রাখেন তরুণদের উপর। অনুরাধ রাখেন ‘সব ক্ষয়ে যাচ্ছে, তবু এখনো আমি তরুণদের উপর ভরসা রাখতে চাই এই অবস্থার পরিবর্তনের।’ সারাদিন কবিতা, গান, আবৃত্তি আর স্মৃতিচারণ এবং আনন্দ আড্ডার পর বক্তৃতা পর্বটি শুরু হয় রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী লাইসা আহমেদ লিসা’র গান দিয়ে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা এবং সঞ্চালনা করেন সৈয়দ আপন আহসান।











